বিজয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে ছাত্র-যুব সমাজকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।

শনিবার (১৪ জুন) রাতে চট্টগ্রাম-৯ নম্বর আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের সমর্থনে পেশাজীবী ও ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ছাত্র-যুব সমাজের নেতৃত্বে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিবর্তন হয়েছে। আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিজয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে আবারও ছাত্র-যুব সমাজকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। এবারের ভোটে যদি কোনো অপশক্তি কালো হাত আর কালো টাকা নিয়ে এগিয়ে আসে, যেভাবে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-যুব সমাজ বুক চেতিয়ে সফল করেছে সেভাবে সেই কালো অপশক্তিতে তারা আবারও ব্যর্থ করে দেবে।

তিনি বলেন, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তারুণ্য নির্ভর ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে অকুতোভয় সৈনিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে নতুন প্রজন্মকে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। এখন বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে।

তিনি আরও বলেন, পূর্বের সরকারের ন্যায় যাতে অন্য কোন দল বা গোষ্ঠী স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে এমন সংস্কার করেই নতুন প্রজন্ম নির্বাচন চায়। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশের দাবি হল, পূর্ববর্তী সরকারের স্বৈরাচারী কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয়, সেজন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া ও শাসন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হোক। তাদের চাওয়া, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হোক, যা ভবিষ্যতে কোনো দল বা গোষ্ঠী যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে।

মাওলানা শাহজাহান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ২ জন শীর্ষ দায়িত্বশীল ৩টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে দুর্নীতি ও অনিয়ম মুক্ত করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদেরকে দুর্নীতির কোনো কালিমা লেপন করতে পারেনি তৎকালীন সরকার। জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতি, অনিয়ম ও টেন্ডারবাজিসহ যাবতীয় অনিয়মের বিরুদ্ধে আপোষহীন। জামায়াতের নেতা-কর্মীরা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের পরিচালক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনূছের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও কোতোয়ালী থানা আমির আমির হোছাইন, হামেদ হাসান ইলাহী, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মুমিনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক খুররম মুরাদ, ডবলমুরিং থানা আমির ফারুক আজম, চকবাজার থানা আমির আহমদ খালেদুল আনোয়ার, বাকলিয়া থানা আমির সুলতান আহমদ প্রমুখ।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, যেকোন আন্দোলন ছাত্র-যুবদের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। তারা সাধারণত সমাজের পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অনেক সফল আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। শহীদদের রক্তের অমর্যাদা হয় এমন নির্বাচন দেখতে চায় না। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে অন্তর্র্বর্তী সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। সরকারকে স্বচ্ছ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করার লক্ষ্যে সকল আয়োজন শেষ করতে হবে।

এতে চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সাবেক সভাপতি ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন, চকবাজার থানা নায়েবে আমির মুহাম্মদ আবদুল হান্নান, কোতোয়ালী থানা সেক্রেটারি মুস্তাক আহমদ, পাঁচলাইশ থানা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও সাবেক ছাত্রনেতা তৌহিদুল ইসলাম আজাদ, কোতোয়ালী থানা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও সাবেক ছাত্রনেতা আ ন ম জোবায়েরসহ ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।